তাঁদেরকে উত্সর্গ করলাম

তাঁদেরকে উত্সর্গ  করলাম.....


আমাদের সমাজ বহুকাল ধরে বহু মানুষকে দেবতা রূপে পেয়েছে। দেবতাতুল্য বলাটা বোধ হয় ভুল হবে তবু তাঁর কিছুটা রূপ ধারণ করাটাও আমাদের কাছে দেবতাতুল্য। সূর্যকে যদি আমরা দেবতা হিসেবে মেনে নিতে পারি , তাহলে পৃথিবীতে আসা সূর্যের রশ্মিগুলিকে হয়ত আমরা দেবতার রূপ বলতে পারি। কোন শান্ত মূর্তিকে দেবতা বলে মেনে নেওয়াটাও যেমন বোকামি , তেমনি এই আলোর কিরণগুলিকে দেবতাতুল্য বলাটা ততটাই মুঢ়তার পরিচয়। তবু এই কিরানগুলি-ই তো পৃথিবীতে আলোর ও প্রানের সঞ্চার করে তাই সূর্য থেকে আসা রশ্মিগুলোকে সাধারণ মানুষেরা খুব সহজেই দেবতাতুল্য বলে মেনে নেয়। ঠিক তেমন ভাবেই সেই সব " তাঁরা "-রা মানুষের মনে ও প্রাণে আলোর সঞ্চার করেছেন ও করছেন, মনের মধ্যে শান্তির ভাব ফুটিয়ে তলে, আনে সতেজতা। প্রতিভার সমতুল্য হয়তো দেবতাও নয়। একটি মানুষ প্রতিভার টানে শিখরে ওঠে , আবার তাদের পতনও হয়. পতন নিয়ে আলোচনা করলে হয়তো মানুষের মনের সেই ক্ষুদ্র সদ্য সঞ্চারিত আগুনে জল ঢেলে সেটিকে আবার অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেওয়া হবে। তাই মনুষত্ব বোধ যতদিন সদাচঞ্চল থাকবে , ততদিন এই পাপটি করব না। কোথায় বলে জ্ঞানের ভান্ডার অনন্ত।  তাই সেই অনন্ত সমুদ্র থেকে এক ফোঁটা এক ফোঁটা করে জ্ঞান নিয়ে যেই মানুষগুলি তৈরী হয় তাদেরকেই আমরা দেবতুল্য বলি। 


" আমি ক্লান্ত প্রাণ এক , চারিদিকে জীবনের সমুদ্র সফেন , "
                                              ---  জীবনানন্দ দাস।


আমি কারুর নাম নেব না কারণ প্রতিভার কোন পরিচয় হয় না। হয় না কোন প্রকারভেদ।  প্রতিভা একটাই - যা জীবন্ত , যা অনন্ত , যা স্বাধীন , যা মুক্ত , যা আলোকিত , যা বিস্তারিত , যা আকলংকিত , যা শান্ত , যা অবধারিত , যা সত্য।    


- সৌম্য মান্না 
( ৩ সেপ্টেম্বর , ২০১৩ )


Comments

Popular posts from this blog

Became A Fruitarian

IPL fever